মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী রেজাউল করিমের মায়ের মৃত্যুতে পিরোজপুর পৌর মেয়রের শোক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ বাহাউদ্দিন নাসিমের আশু রোগমুিক্ত কামনায় পিরোজপুরে দোয়া মোনাজাত কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও তার স্ত্রী’র রোগ মুক্তি কামনায় পিরোজপুরে বিশেষ প্রার্থণা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি পিরোজপুরের এলজিইডি’র ৩০ কোটি টাকা টেন্ডার নিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ শোক দিবস উপলক্ষ্যে এফবিসিসিআইয়ের সভা ও দোয়া মাহফিল : পিরোজপুর চেম্বারের অংশ গ্রহণ পিরোজপুরে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল বাশার আকন ও আমজেদ হোসেন খানের মৃত্যুতে দোয়া মোনাজত পিরোজপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দুলাল চন্দ্র দাস ও সময় সাহা’র মৃত্যুতে বিশেষ প্রার্থনা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছে পিরোজপুর বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা কৃষিবিদ পরিষদ পিরেজপুরে ফুটবল খেলা নিয়ে মারামারি : স্কুল ছাত্র নিহত

নুসরাত হত্যায় ১৬ আসামির সবার মৃত্যুদণ্ড

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৪৬৯ Time View

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হাত-পা বেঁধে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আসামিদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এই টাকা আদায় করে নুসরাতের পরিবারকে দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ আজ বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ১১টা ২১ মিনিটে এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি মানুষের সামনে আনার জন্য সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ। রায় শুনে আসামিরা কান্নায় ভেঙে পড়ে।

বিচারক মো. মামুনুর রশিদ আজ বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে রায় পড়া শুরু করেন। ১৭২ পৃষ্ঠার রায়ের চুম্বক অংশ পাঠ করেন তিনি। আসামিপক্ষ আপিল করতে চাইলে সাত কার্যদিবসের মধ্যে হাইকোর্টে আবেদন করতে বলা হয়েছে। এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে তাদের ফেনী জেলা কারাগার থেকে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। তাদের কাঠগড়ায় তোলার পর বিচারক রায় পড়া শুরু করেন। রায় শেষে আসামিদের আবার জেলা কারাগারে ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে বিচারক এই দিন ধার্য করেন। হত্যাকাণ্ডের সাড়ে ছয় মাসের মাথায় এই রায় হলো। 

দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি হলো—সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।

নুসরাত হত্যা মামলায় বাদীপক্ষে ছিলেন বিচারিক আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর হাফেজ আহমেদ, অ্যাডভোকেট আকরামুজ্জামান ও অ্যাডভোকেট এম শাহজাহান সাজু।

আর আসামিপক্ষে ছিলেন হাইকোর্টের আাইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারুক আহমেদ ও এনামুল হক, ফেনী আদালতের সিনিয়র আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু, কামরুল হাসান, নূরুল ইসলাম, ফরিদ উদ্দিন নয়ন ও মাহফুজুল হক, আহসান কবির বেঙ্গল, সিরাজুল হক মিন্টুসহ ২০ জন আইনজীবী।

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন নুসরাত জাহান রাফি। তাকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে ওই মাদ্রাসার কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত মারা যায়। এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।

নুসরাত জাহান রাফি

১০ এপ্রিল থানা থেকে মামলাটি  পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (পিবিআই) কাছে হস্তান্তর করা হয়। আদালত সূত্র জানায়, ২৯ মে এ মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই। চার্জশিটভুক্ত ১৬ আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

৩০ মে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ১০ জুন আদালত মামলাটি আমলে নিলে শুনানি শুরু হয়। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারিক আদালত। ২৭ ও ৩০ জুন মামলার বাদী নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্য দিয়ে বিচার কাজ শুরু হয়। এরপর ৯২ সাক্ষীর মধ্যে ৮৭ জন সাক্ষ্য দেন আদালতে।

এদিকে, রায়কে ঘিরে বুধবার রাত থেকে নুসরাতদের বাড়িতে পাহারা জোরদার করা হয়েছে। প্রহরায় নিয়োজিত আগের তিনজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে আরও ৯ সদস্যকে যুক্ত করা হয়েছে। আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত লোকজনও রেজিস্ট্রার খাতায় সই না করে ওই বাড়িতে ঢোকার অনুমতি পাচ্ছেন না। গত ৭ এপ্রিল থেকে বাড়িটিতে পুলিশ পাহারা বসানো হয়।

এদিকে, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে জেলা সদর ও সোনাগাজীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশের নিরাপত্তাচৌকি বসানো হয়েছে। এছাড়া র‌্যাব সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও টহল দিচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com