সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ০৯:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইন্দুরকানীতে স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অপ-প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন পিরোজপুরে জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান যুব ঐক্য পরিষদের আয়োজনে বৃক্ষরোপন সাহারা খাতুন আর নেই জামায়াত পরিবারের সন্তান এখন সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মঠবাড়িয়ায় এমপির বিরুদ্ধে মানববন্ধন : আয়োজনে ছিল এমপির আপন ভাইও পিরোজপুরে যুব মহিলালীগের ১৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নাজিরপুরে রাস্তার পাশের সরকারি গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ ভান্ডারিয়ায় আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর ঘরে ফাটল : রাজাকার পুত্রকে সদস্য সচিব করার জেপি’র ৮ নেতার পদত্যাগ বাবা’র হত্যাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের বিচার দাবী জানিয়ে সন্তানদের আর্তনাদ (ভিডিও) পিরোজপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ব্যক্তির মৃত্যু

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজরিত পিরোজপুরের সোবাহান মঞ্জিল

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২০
  • ১৬৩ Time View

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিধন্য পিরোজপুর শহরের সোবাহান মঞ্জিল টি আজো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে। মুজিববর্ষে শুরুতে পথচারীরা অপলক নেত্রে তাকিয়ে থাকে হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী ইতিহাসের রাখাল রাজা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজরিত এই ভবনটির দিকে।
আব্দুস সোবাহানের দৌহিত্র পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি একেএম এহেসান উল্লাহ জানান, ১৯৫৪, ১৯৫৬ এবং ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধু পিরোজপুরে এসে মহাকুমা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিশিষ্ট আইনজীবী আব্দুস সোবাহানের বাড়িতে অবস্থান করেছেন এবং এ বাড়িতে বসেই কর্মীসভায় ভাষণ দিয়েছেন। পিরোজপুর শহরে জনসভায় ভাষণ দিয়ে আবার এ বাড়িতেই ফিরে এসে রাত্রিযাপন করেছেন। পিরোজপুরের এ ভবনটি বঙ্গবন্ধু প্রেমিকদের কাছে এক ঐতিহাসিক ভবনে পরিণত হয়েছে। ১৯৭০ সালে এ ভবনে বসে তিনি বলেছিলেন ৬ দফা হচ্ছে স্বাধীনতার সনদ, বাঙ্গালীদের মুক্তির সনদ। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের পূর্বে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে, ১৯৫৬ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী হয়ে এবং ১৯৭০ সালে শেরেবাংলার পুত্র এ কে ফয়জুল হককে সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধু পিরোজপুরে এসে এই সোবাহান মঞ্জিলে অবস্থান করেন। ১৯৫৪ এবং ১৯৫৬ সালে বঙ্গবন্ধুর পিরোজপুর সফরকালে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুস সোবাহান এবং সাধারণ সম্পাদক জয়নুল আবেদীন, বদিউল আলম চৌধূরী, আজিজুর রহমান সিকদার, সফিজউদ্দিন আহম্মেদ, ডাঃ আমোদ রঞ্জন গুহ সহ মহকুমা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সার্বক্ষণিক বঙ্গবন্ধুর সাথে থাকতেন। ১৯৭০ সালে ৭ এবং ১৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ এবং পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পিরোজপুরে এসে বঙ্গবন্ধু এ ভবনটিতেই অবস্থান করেছেন।
পিরোজপুর শহরের টাউন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে এক বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ইনশাল্লাহ এই নির্বাচনে আপনাদের সমর্থনে আমরা বিজয়ী হবো আর আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি ৬ দফার দাড়ি-কমা-সেমিকোলনও পরিবর্তন করা হবে না। ৬ দফা আদায় করে ছাড়বো। জনসভায় আসার পূর্বে এই সোবাহান মঞ্জিলে প্রবেশের সময় বাড়ির লোকজন বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা জানায় এবং প্রয়াত আব্দুস সোবাহানের কনিষ্ঠ পুত্র এডভোকেট সলিমুল্লাহ ৬টি তারা খচিত একটি নৌকা বঙ্গবন্ধুর হাতে তুলে দিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন- বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানীরা ৬ দফা না মানলে কি করবেন? বঙ্গবন্ধু মুচকি হেসে বলেছিলেন- সলিম স্বাধীনতা অর্জনের জন্য প্রস্তুত হও।
আব্দুস সোবাহানের দৌহিত্র পৌরসভার কাউন্সিলর সাদুল্লাহ লিটন জানান, বঙ্গবন্ধু যে টেবিলে ভাত খেতেন সে টেবিলটি এখনো অক্ষত আছে। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজরীত পিরোজপুর শহরের হাসপাতাল সড়কের এই দ্বিতল ভবনটি পথচারিদের মহান নেতার স্মৃতির পরশ দেয়।
মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজরীত এই ভবনটিতে বঙ্গবন্ধুর নানা স্মৃতিচারণ ও মুজিববর্ষে উদযাপন উপলক্ষে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছে বছর ব্যাপী নানা আয়োজন সহ ১৭ মার্চ রাতে মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানের জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ সহ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com