বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাদের সুস্থতার কামনা পিরোজপুরে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কদমতলায় প্রতিপক্ষের হামলায় ইউপি চেয়ারম্যান সহ আহত-১২ পিরোজপুরে রূপালী ব্যাংক হুলারহাট শাখার আয়োজনে বার্ষিক সমাপনী অনুষ্ঠান ও গ্রাহক সমাবেশ পিরোজপুর পৌরসভার নব-নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরগণের শপথ গ্রহন পিরোজপুরে গভীর রাতে বিনা ওয়ারেন্টে আসামী ধরাকে কেন্দ্র করে ডাকাত সন্দেহে পুলিশের সাথে এলাকাবাসীর সংঘর্ষ মালিখালী ইউপি চেয়ারম্যান সুমন মন্ডল মিঠুর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন পিরোজপুরে শীতার্তদের মাঝে জেলা প্রশাসকের শীতবস্ত্র বিতরণ মোড়েলগঞ্জ রাতের আঁধারে পুকুরে বিষপ্রয়োগে মাছ নিধন পিরোজপুরের পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার মাঝি হলেন হাবিবুর রহমান মালেক আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী ও দলীয় নেতাদের সম্পর্কে মিথ্যাচার : প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

পিরোজপুরে গভীর রাতে বিনা ওয়ারেন্টে আসামী ধরাকে কেন্দ্র করে ডাকাত সন্দেহে পুলিশের সাথে এলাকাবাসীর সংঘর্ষ

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৫৫ Time View

স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুর সদর উপজেলার কুমারখালী এলাকায় গভীর রাতে বিনা ওয়ারেন্টে আসামী ধরাকে কেন্দ্র করে ডাকাত সন্দেহে পুলিশের সাথে এলাকাবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সদর থানার ৫ জন পুলিশ সদস্য এবং ২ জন আসামী আহত হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার সদর থানার এসআই মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে ১৬ জনকে এজাহার ভুক্ত এবং ৩৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা দায়ের করে এবং পুলিশ ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলো সদর থানার এস আই সৈকত হোসেন সানি, এস আই মাহামুদুল হাসান, এস আই মো: খাইরুল হোসেন, এ এস আই সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সদস্য মো মারুফ হাওলাদার।
এছাড়া আহত আসামীরা হলো হাসান সিকদার (২৭), সোহেল সিকদার (৪০) সৌরভ (২০) রেজাউল সেখ (২৫) শুভ (২০) জুয়েল কাজী (২৫) আসামী ওসমান (৩০) শাওন দাস (২২) ।
গ্রেপ্তার হাসান সিকদারের মা হোসনেয়ারা বেগম অভিযোগ করে জানান, রোববার গভীর রাতে কয়েক জন লোক তাদের বাড়ীর চারপাশে অবস্থান নিয়ে ঘরের ভিতরে দড়জা ভেঙ্গে ঠোকের চেষ্টা চালায়। প্রথমে তারা বুঝতে পারছে বাড়িতে ডাকাত পড়েছে। তাই প্রথমে ঘরের ভিতরে বসে তিনি ডাকাত-ডাকাত বলে চিৎকার করলে পাশের রুমে ঘুমিয়ে থাকা তার ছেলে হাসান সিকদার উঠে ঘরের দরজার সামনে এসে জিজ্ঞেসা করে কে আপনারা । তখন তারা বলে থানা থেকে এসে পুলিশ । এ সময় হাসান সিকদার বলে কেনো তাদের বাড়িত এসেছে । তখন ঘরের বাহিরে থাকা পুলিশরা বলে ঘর থেকে বাহির হও তা না হলে দরজা ভেঙ্গে নিয়ে যাবো। পরে হাসান সিকদার ঘরের দরজা খুলে দিয়ে কেনো তাকে গ্রেপ্তারের জন্য এসেছে তা জানতে চাইলে পুলিশরা তাকে ঘরে বাড়ির টেনে এনে বাড়ির সামনে বসে মারধর শুরু করে। এ সময় তিনি নিজেরও পুলিশের কাছ থেকে হাসান কে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তাকেও পুলিশ মারধর করে এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে।
হোসনেয়ারা বেগম আরো অভিযোগ করে জানান, কোন কারণে হাসান সিকদার কে গ্রেপ্তার করা হবে এবং কোন কাগজ বা ওয়ারেন্ট আছে কিনা জানাতে চাওয়া হলে পুলিশ কিছুই বলেনি এবং কোন কাগজ দেখাতেও পারেনি।
স্থানীয় আনজুম আক্তার সুমাইয়া অভিযোগ করে জানান , এলাকায় ডাকাত পড়েছে শুনতে পেয়ে তাদের ঘরের সবাই বের হয়ে যায়। এ সময় তারা দেখতে পায় পুলিশ তার চাচাতো ভাই হাসান সিকদারকে গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছে। তখন তিনি পুলিশের কাছে জানতে চাইলে পুলিশ তার চুল ধরে টান দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে তার শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। পরে তিনি চিৎকার করলে ঘরে থাকার তার ভাইয়েরা ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে বাচাঁয়।
স্থানীয় শিউলী আক্তার অভিযোগ করে জানান, বিনা দোষে তার ভাই ও ভাইয়ের ছেলেকে পুলিশ মারধর করে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের থানায় ভিতরে আটকে পুলিশ বেধরম মারধর করেছে। এমনকি তিনি থানায় দুপুরে খাবার ও অসুস্থ ভাইয়ের জন্য ওষুধ নিয়ে গেলেও পুলিশ সেই খাবার-ওষুধ দিতে দেয়নি। খাবার দেয়ার জন্য পুলিশ কে অনুরোধ করলে পুলিশ খুব খারাপ ব্যবহার করেছে।
২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুয়াল হোসেন সিকদার জানান, রাতে এলাকায় ডাকাত পরেছে শুনে তিনি সহ স্থানীয়রা ঘর থেকে বের হলে কিছু বোঝাড় আগেই ডাকাত সন্ধেহে পুলিশের সাথে এলাকাবাসীর সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ হাসান সিকদারে নিয়ে যায়। এরপরে স্থানীয় কয়েক জনকে নিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানার জন্য থানার ভিতরে প্রবেশ করলে পুলিশ থানার প্রধান গেইট আটকে দিয়ে তার সাথে থাকা লোকজনকে বেধরক মারধর করে এবং তার সাথে থাকা লোকজনকে গ্রেপ্তার করে । এ সময় স্থানীয় হাসান সিকদার ও শাওন দাস পুলিশের মারধরে গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে শাওন জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। পুলিশ বিনা করাণে তার সাথে থাকা লোকজনকে গ্রেপ্তার করে আসামী করেছে পুলিশের নিজেদের দোষ ঢাকতেই এমন কাজ করেছে। প্রকৃতঘটনা থানায় লাগানো সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই পাওয়া যাবে।
কাউন্সিলর আবুয়াল হোসেন সিকদার আরো জানান, পুলিশ বিশেষ কোন মহলকে খুশি করতেই অনেক লোককে আসামী করে মামলা দিয়ে তাদের এলাকার সাধারণ মানুষদের হয়রানী করছে। মামলা দিয়ে আসামী ধরে তাদের চোখ বেধে কোমরে দড়ি দিয়ে নানা রকমের ভয়-ভতি দেখাচ্ছে।
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তারেক আজিজুল্লাহ জানান, রাত ২ টার পরে আহত ৫ পুলিশ সদস্যকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় এবং তাদের মধ্যে ২ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এছাড়া ২ জন আসামীকেও আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা হয়।
তবে এ বিষয়ে পুলিশের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com